রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলায় এবার রবি ও সদ্য সমাপ্ত খরিফ-১ মৌসুমে রেকর্ড ২৩ হাজার ১২ টন চীনাবাদাম উৎপাদন হয়েছে। কৃষকদের মুখে এখন আনন্দের হাসি। বাজারে ভালো দামে চীনাবাদাম বিক্রি করতে পারায় কৃষকরা এটিকে লাভজনক ফসল হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
📌 ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা
স্থানীয় বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষকরা উৎপাদিত চীনাবাদাম পাইকারদের কাছে মানভেদে মণপ্রতি (৪০ কেজি) ৪,২০০ থেকে ৪,৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। পরে পাইকাররা তা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে মণপ্রতি ৪,৮০০ থেকে ৫,০০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।
📌 রবি মৌসুমের চীনাবাদাম উৎপাদন
রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, গত রবি মৌসুমে ৫ হাজার ৭৬১ হেক্টর জমি থেকে ১২ হাজার ৩৮০ টন চীনাবাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে কৃষকরা ৫ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে চাষ করে ১১ হাজার ৯২৮ টন চীনাবাদাম উৎপাদন করেছেন।’
📌 খরিফ-১ মৌসুমের চীনাবাদাম উৎপাদন
একইভাবে খরিফ-১ মৌসুমে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলায় ৫ হাজার ৩৮৪ হেক্টর জমিতে ১১ হাজার ৪৭০ টন চীনাবাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু কৃষকরা ৫ হাজার ২৫৩ হেক্টর জমিতে চাষ করে ১১ হাজার ৮৪ টন ফসল পেয়েছেন।’
📌 উচ্চ ফলনশীল জাত ও বাড়তি আগ্রহ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাত চাষ করে কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। ফলে চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী জমিতে চীনাবাদাম চাষ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
📌 কৃষকদের আয় বাড়ছে
দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পিএইচডি ফেলো মো. মামুনুর রশিদ জানান— “প্রতি একর জমিতে ২২ থেকে ২৮ মণ চীনাবাদাম উৎপাদন করে কৃষকরা প্রায় ৮০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাধারণ কৃষকরা এটিকে লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।”
রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়ার কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম, লুৎফর রহমান, ইয়াসিন আলী, সাইদুল ইসলাম, নুরুল হক ও মোহাম্মদ আলী জানান, “গত রবি ও খরিফ-১ মৌসুমে আমরা বাম্পার ফলন পেয়েছি এবং ভালো দামও পেয়েছি। এতে আমাদের জীবিকা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হয়েছে।”
সব মিলিয়ে, রংপুর অঞ্চলে চীনাবাদাম এখন কৃষকদের জন্য অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসলের জায়গা করে নিয়েছে।
এসসি//



