ভারতের হায়দরাবাদের এমপি ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বিজেপি সরকারের ‘অবৈধ বাংলাদেশি ফেরত পাঠানো’ নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেন, যদি সত্যিই সরকার বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে চায়, তাহলে প্রথমেই ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই দেশে পাঠাতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ভারতের জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আয়োজিত ‘আইডিয়া এক্সচেঞ্জ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ওয়েইসি এই মন্তব্য করেন।”
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি
ওয়েইসি বলেন, “আমরা কেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে রাখছি? তাকেও তো বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো উচিত। তিনিও একজন বাংলাদেশি, তাই না?”
তিনি যোগ করেন, ঢাকায় ঘটে যাওয়া জনপ্রিয় গণঅভ্যুত্থান ভারতকে মেনে নিতে হবে এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা উচিত।
অবৈধ বাংলাদেশি ইস্যুতে সমালোচনা
ওয়েইসি অভিযোগ করেন, ভারতে বাংলা ভাষায় কথা বললেই মানুষকে বাংলাদেশি আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। অথচ প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকরাও এই প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী হচ্ছেন। তিনি বলেন, “এখানে বিদেশাতঙ্ক কাজ করছে। অনেক মুসলিম নাগরিককেও সন্দেহ করে আটক করা হচ্ছে।”
বিহারের ভোটার তালিকা নিয়ে সতর্কবার্তা
বিহারে চলমান ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও সতর্ক করেন ওয়েইসি। তার দাবি, এই প্রক্রিয়ায় অনেক প্রকৃত ভোটার; বিশেষত মুসলিমরা বাদ পড়তে পারেন, যা তাদের নাগরিকত্ব প্রশ্নে জটিলতা তৈরি করবে।
সংখ্যালঘু ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিজেপি সরকারের নীরবতা
ওয়েইসি আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে নীরব। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ৭/১১ ট্রেন বিস্ফোরণ কিংবা ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ নিয়ে সরকার কথা বলে না।
ফিলিস্তিন ইস্যুতেও সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে ওয়েইসি বলেন, “গাজায় যে গণহত্যা চলছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি নীরব। বরং এই নীরবতা ইসরায়েলের বর্ণবাদী সরকারের হত্যাযজ্ঞকে পরোক্ষভাবে সমর্থন দিচ্ছে।”
তার দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ২০ হাজার শিশু। অথচ ভারত সরকার দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের কথা বললেও ফিলিস্তিনিদের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
এসসি//



