রাজনীতিতে কোন শক্তি ভবিষ্যতের বাংলাদেশে মুখ্য ভূমিকা রাখবে—এ প্রশ্নে নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি।”
সম্প্রতি ইউটিউব ভিত্তিক একটি আলোচনায় অংশ নিয়ে রনি বলেন, “আগামীর বাংলাদেশে কেন আবার সেই বিএনপি, আবার সেই আওয়ামী লীগ, আবার সেই তারেক রহমান, আবার সেই শেখ হাসিনার কথা আসছে?”
তিনি জানান, এই প্রশ্নটি এখন আর কোনো ‘অলৌকিক’ কল্পনা নয়; বরং বাস্তব রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “চার-পাঁচ মাস আগে অনেকেই ঠাট্টা করে বলত যে শেখ হাসিনা তারেক রহমানের আগে দেশে চলে আসবেন। তখন বিষয়টা হাস্যকর মনে হলেও এখন বাস্তবতা অনেক নির্মম।”
🔍 রাজনীতিতে অলৌকিকতা নেই, হিসেব-নিকেশই শেষ কথা
গোলাম মাওলা রনি মনে করেন, রাজনীতি কোনো ‘প্রফেসি’ বা অলৌকিক ভবিষ্যদ্বাণীর জায়গা নয়। “রাজনীতিতে বিজ্ঞান ও অঙ্কের বাইরে কিছু হয় না। সময়ের সফলতা, ব্যর্থতা, মানুষের ক্ষোভ সব কিছুকে একত্র করে বিশ্লেষণ করতে হয়,” বলেন তিনি।”
তার মতে, যদি সরকার সফল হয়, তাহলে মানুষ বিএনপি বা আওয়ামী লীগকে মনে রাখবে না। কিন্তু যদি ব্যর্থতা দৃশ্যমান হয়, তখন এ দুই দলই আবার সামনে চলে আসবে। তিনি সরাসরি বলেন, “রাজনীতিতে অলৌকিক ঘটনা ঘটে না।”
🧩 ড. ইউনূস, জামায়াত, এনসিপি—সব আলোচনা এখন টেবিলে
রনি বলেন, “আজ থেকে ছয় মাস আগে আমরা কল্পনাও করতে পারতাম না, জামায়াত, শিবির বা এনসিপি নিয়ে এত আলোচনা হবে। কিন্তু এখন সাধারণ মানুষ এমনকি সোশ্যাল মিডিয়াতেও এসব আলোচনা করছে।”
এছাড়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়েও রনি বলেন, “তিনি নিঃসন্দেহে এক ম্যাটিকুলাস মাস্টারমাইন্ড। রাজনীতিতে তাঁর আবির্ভাব অলৌকিক কিছু না, বরং পরিকল্পিত।”
🤔 বিকল্প শক্তি কি তাহলে ভেসে উঠছে?
রনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন এখানে জামায়াত, এনসিপি, নাহিদ-আসিফ বা ড. ইউনূসের কথা আসছে না? কেন সব আলোচনা আবার শেখ হাসিনা ও তারেক রহমানকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ?”
তিনি বলেন, “এটি আমাদের রাজনীতির গভীর সংকেত দেয় যে আমরা হয়তো এখনো পরিবারতন্ত্র ও পরিচিত দুই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।”
গোলাম মাওলা রনির এই বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আসলেই কি আগামীর বাংলাদেশ আবার পুরনো দুই শক্তির মাঝে বন্দি থাকবে, নাকি বিকল্প নেতৃত্বের উদ্ভব ঘটবে—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করছে।”
এসসি//



