দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের জেরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সম্পর্ক। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ভোরে কম্বোডিয়ার দুটি সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে থাই বিমান বাহিনী। এই হামলায় ৬টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান অংশ নেয় বলে নিশ্চিত করেছে থাই প্রতিরক্ষা বাহিনী।
থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপ মুখপাত্র রিৎচা সুকসুওয়ানন বলেন, “এটি ছিল একটি পূর্ব পরিকল্পিত অভিযান। উবন রাতচাথানি প্রদেশে মোতায়েন থাকা ছয়টি যুদ্ধবিমান থেকে কম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় আক্রমণ চালানো হয়।”
কম্বোডিয়ার প্রতিক্রিয়া:
হামলার ঘটনা স্বীকার করেছে কম্বোডিয়াও। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “ওয়াত কিয়াও সিখা কিরি সাভারাক প্যাগোডা সংলগ্ন সড়কে থাই যুদ্ধবিমান থেকে দুটি বোমা ফেলা হয়েছে। আমরা এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেবো।”
পান্না ত্রিভূজ: বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু
পান্না ত্রিভূজ (Emerald Triangle) নামে পরিচিত এলাকা নিয়ে কয়েক দশক ধরেই দ্বন্দ্ব চলছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে। এই অঞ্চলটি থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং লাওসের সীমান্তে অবস্থিত, যেখানে বহু প্রাচীন হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও ভূ-রাজনৈতিক কারণে এলাকা দুটি দেশই নিজেদের দাবি করে।
পটভূমি:
প্রায় ১৫ বছর আগে দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়। তবে ২০২৫ সালের মে মাসে কম্বোডীয় এক সেনা থাই সীমান্তের কাছে নিহত হলে উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পায়। গতকাল (২৩ জুলাই) কম্বোডিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণে এক থাই সেনা গুরুতর আহত হন। এরপর আজ ভোরে প্রতিশোধ হিসেবে বিমান হামলা চালায় থাইল্যান্ড।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ:
দুই দেশের এই সামরিক উত্তেজনায় দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ঐতিহ্যবাহী মন্দির সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান এই সামরিক উত্তেজনা যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা হয়, তবে এটি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। পান্না ত্রিভুজ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা।
এসসি//



