দীর্ঘ ১৫ মাসের অপেক্ষা শেষে অবশেষে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে পৌঁছেছে অত্যাধুনিক অ্যাপাচে AH-64E হেলিকপ্টার, যা ‘উড়ন্ত ট্যাঙ্ক’ ও ‘ট্যাঙ্ক কিলার’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) মার্কিন পরিবহণ বিমানে তিনটি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার নিয়ে উত্তরপ্রদেশের হিন্ডন বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করে এই চালান।
বৈশিষ্ট্য ও সামরিক ক্ষমতা
বিশ্বের অন্যতম সেরা যুদ্ধ হেলিকপ্টার হিসেবে বিবেচিত অ্যাপাচে হেলিকপ্টার শত্রুর ট্যাঙ্ক ধ্বংসে বিশেষ পারদর্শী। এটি এক মিনিটে ২৮,০০০ ফুট উচ্চতায় উঠতে পারে এবং ৩০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে উড়তে সক্ষম। নাইট ভিশন, টিএডিএস প্রযুক্তি ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এটিকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে।
নতুন প্রজন্মের অ্যাপাচে
ভারতে আসা হেলিকপ্টারগুলো অ্যাপাচে AH-64E প্রজন্মের, যা একসঙ্গে ১২৮টি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে এবং ১২টি লক্ষ্যে একযোগে আঘাত হানতে সক্ষম। এতে রয়েছে মার্কিন হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং ৩০ এমএম অটোক্যানন, যা থেকে মাত্র দুই মিনিটে ছোড়া সম্ভব ১,২০০ রাউন্ড গুলি।
চুক্তি ও দেরির ইতিহাস
২০২০ সালে ৬টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কেনার জন্য বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে ভারত। প্রাথমিকভাবে ২০২৪ সালের জুন মাসে হেলিকপ্টারগুলো আসার কথা থাকলেও বিলম্ব হয়। বোয়িং পরে জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনটি ও ২০২৫ সালের জুনে বাকি তিনটি হেলিকপ্টার পাঠানো হবে। কিন্তু সেই সময়সীমাও রক্ষা হয়নি।
শেষপর্যন্ত ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ফোনালাপের পর গতকাল প্রথম চালান ভারত পৌঁছায়।
পুরনো এবং নতুন ব্যবহারের পার্থক্য
২০১০ সালে ভারতের বিমান বাহিনী প্রথম অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ব্যবহার শুরু করে। সেই সময় ২২টি হেলিকপ্টার সংগ্রহ করা হয়। তবে এবারের নতুন চালান সম্পূর্ণরূপে ভারতের স্থলবাহিনীর জন্য বরাদ্দ।
বিশ্বব্যাপী ব্যবহার
বর্তমানে অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে বিশ্বের ১৭টি দেশ। এর অসাধারণ প্রতিরক্ষা বৈশিষ্ট্য একে করেছে যুদ্ধক্ষেত্রে অনন্য।
সূত্র :ইন্ডিয়া টুডে
এসসি//



