রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক মাসুদ কামাল মনে করেন, গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সভা ও পরবর্তী সংঘর্ষ ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এনসিপি ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ নামে যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল, তা ইচ্ছাকৃতভাবেই উত্তেজনা তৈরির উদ্দেশ্যে সংগঠিত হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (১৬ জুলাই) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশগ্রহণ করে মাসুদ কামাল বলেন, “এনসিপি যে গোপালগঞ্জে গেছে, এটা তারা জুলাই আন্দোলনের দিনে খুব ইনটেনশনালি করেছে। কারণ, তারা জানতো যে আজকের দিনটা প্রতীকি ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। তারা চাইছিল গণ্ডগোল হোক, সেটাই হয়েছে।”
তিনি বলেন, “ঢাকা শহরের রাজনীতি আর গোপালগঞ্জের বাস্তবতা এক না। ওখানে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে অপমান করে কথা বললে মানুষ কি তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করবে? এটা তো বাস্তবতা না।”
❝ নিষিদ্ধ করলেই দল মুছে যায় না ❞
সরকারের পক্ষ থেকে এনসিপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করার বিষয়ে মাসুদ কামাল বলেন, “কোনো দলকে নিষিদ্ধ করলেই তারা মানুষের মন থেকে মুছে যায় না। ইতিহাসে এর উদাহরণ আছে — জামায়াতকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তারা কি মুছে গেছে মানুষের হৃদয় থেকে? হয়নি। এনসিপিও হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচারী সরকার যখন কাউকে নিষিদ্ধ করে, সেটি অনেক সময় জনগণের মনে সহানুভূতি তৈরি করে। এনসিপির মূল নেতৃত্ব গোপালগঞ্জ জেলার মানুষ। আপনি কি মনে করেন, সবাই আওয়ামী লীগের বিরোধী হয়ে গেছে সেখানে?”
❝ সংঘর্ষ ছিল উদ্দেশ্যমূলক ❞
মাসুদ কামাল বলেন, “এনসিপি জানতো তারা গোপালগঞ্জে গিয়ে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করবে। তারা জেনে-বুঝেই গেছে। তারা চেয়েছে যেন সংঘর্ষ হয়। বাস্তবে তাই হয়েছে— গোলাগুলি, আহত, ১৪৪ ধারা জারি। এগুলো কি স্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি?”
তিনি বলেন, “এখন যদি কেউ বলেন গোপালগঞ্জের এই ঘটনাগুলোর পরেও নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, তাহলে সেটা আত্মপ্রবঞ্চনা। কারণ, লেভেল প্লেইং ফিল্ড বলতে কিছু নেই।”
❝ এটা সাজানো না, পরিকল্পিত ❞
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি বলছি না এটা সাজানো। আমি বলছি এটা পূর্বপরিকল্পিত (pre-planned)। এনসিপি এটা ঘটিয়েছে না ঠিক, কিন্তু তারা জানতো সেখানে গেলেই এসব হবে।”
মাসুদ কামালের ভাষ্য, “যেভাবে তারা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কথা বলছে, সেটা করে গোপালগঞ্জে গিয়ে কেউ স্বাভাবিক আচরণ আশা করতে পারে না। তারা জানতো পরিস্থিতি উত্তপ্ত হবে, সেই পরিবেশ তারা নিজেরাও তৈরি করেছে।”
এসসি//



