চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে এক জামায়াত নেতাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহানগর কমিটির সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংগঠনটি তার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে এবং একটি কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেছে।
শনিবার (৫ জুলাই) রাতে ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কেন্দ্রীয় সভাপতি রশিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনামের নির্দেশনায় চিঠিটি প্রেরণ করা হয়।’
📌 অভিযোগের পেছনে কী রয়েছে?
চট্টগ্রাম মেঘনা পেট্রোলিয়াম এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও জামায়াত নেতা নওশেদ জামালের স্ত্রী রিয়াজুল জান্নাত অভিযোগ করেন, কয়েক মাস ধরে তার স্বামীর কাছ থেকে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন নিজাম উদ্দিন। চাঁদা না দেওয়ায় মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়।”
নওশেদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) কোতোয়ালি থানা পুলিশ একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে। এরপর শুক্রবার সিএমপি কমিশনার বরাবর পাঠানো এক লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য তুলে ধরেন রিয়াজুল জান্নাত।”
তার দাবি, নিজাম উদ্দিন একটি ‘মব’ তৈরি করে তার স্বামীকে মারধর করেন এবং পরে পুলিশে দেন। এমনকি একটি ৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিও তুলে ধরে তিনি বলেন, ভিডিওতে নিজাম উদ্দিন একজনকে ফোনে বলেন:
“আপনার যার প্রতি ক্ষোভ, ওই তিনজনকে … করে দিতে পারবে … দেশে থাকতে হবে এটা মাথায় রাইখেন।”
নিজাম উদ্দিন ফেসবুক পোস্ট দিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায়,
“ভিডিওটি ৪-৫ মাস আগের এবং পতেঙ্গা থানার এলাকার ঘটনা। ভিডিওতে কোথাও চাঁদা দাবির প্রমাণ নেই। এটি একটি চক্রান্ত।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি বলেছিলাম—নওশেদ যদি আওয়ামী লীগ-সম্পৃক্ত হয়, তাহলে ব্যবস্থা নিন, না হয় ছেড়ে দিন। তারা বলছে, আমি তাকে ধরিয়ে দিয়েছি। এটা এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতিশোধ।”
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়,
“সংগঠনের নীতিমালা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী কাজ করেছেন নিজাম উদ্দিন। সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।”
তাকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেলে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে নোটিশে জানানো হয়।”
এসসি//



