চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের রেকর্ড দরপতন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান কমেছে ১০ শতাংশেরও বেশি। এমন বড় ধরনের পতন শেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৭৩ সালে, যখন যুক্তরাষ্ট্র স্বর্ণমান (Gold Standard) থেকে সরে আসে।”
তবে এবারের প্রেক্ষাপট আলাদা। এবার ডলারের পতনের মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী অর্থনৈতিক নীতি—বিশেষ করে উচ্চ শুল্ক আরোপ, এককেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি এবং ব্যাপক সরকারি ঋণ। এই নীতিগুলো বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রতি আস্থার ঘাটতি তৈরি করেছে।”
💸 কেন ঘটছে ডলারের এই পতন?
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং অনির্দেশ্য আর্থিক সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীরা মার্কিন অর্থনীতিকে অনিরাপদ মনে করছেন। এতে করে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে, যা সরাসরি ডলারের চাহিদা ও মানকে প্রভাবিত করেছে।
মুদ্রাবাজারে চাপের পেছনে আরও রয়েছে—
- মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা
- চরম সরকারি ব্যয়
- ঋণের লাগামছাড়া বৃদ্ধি
🌍 বৈশ্বিক প্রভাব কী?
ডলারের মান কমে যাওয়ার ফলে:
- মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিদেশ ভ্রমণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে
- বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে
- আমদানির খরচ বেড়ে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে
- তবে রপ্তানিকারকরা পেয়েছেন সাময়িক সুবিধা, কারণ দুর্বল ডলারের কারণে মার্কিন পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে।
📈 শেয়ার ও বন্ড বাজারে ইতিবাচকতা, কিন্তু…
ডলার দুর্বল হলেও শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটে কিছু ইতিবাচকতা দেখা যাচ্ছে। তবুও অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র আস্থাহীন বাজার পরিস্থিতির একটি ব্যতিক্রমী প্রতিক্রিয়া, যা স্থায়ী সমাধান নয়।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বৈদেশিক মুদ্রা বিশ্লেষক স্টিভ ইংল্যান্ডার বলেন:
“ডলার শক্তিশালী কি না, সেটা মুখ্য নয়। আসল প্রশ্ন হলো—বিশ্ব ডলারের ভূমিকাকে এখন কীভাবে দেখছে?”
🏛️ ট্রাম্পের নীতির প্রভাব
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার সময় ডলারের সূচক ছিল সর্বোচ্চ। কিন্তু এরপর থেকেই পতন শুরু হয়।
বিশেষ করে ২ এপ্রিল, ট্রাম্প যখন আকস্মিকভাবে একাধিক দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, তখন থেকেই মুদ্রাবাজার, শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন সাময়িক নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক নীতি ও ডলারের ভবিষ্যৎ গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিবিদরা এটিকে কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।”
এসসি//



