মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটি আল উদেইদ-এ ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। কাতারের দোহা উপকণ্ঠে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে হামলার ফলে রানওয়ে, ফ্লাইট লাইন ও মূল সামরিক অবকাঠামো চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় ঘাঁটিতে শতাধিক মার্কিন সেনা উপস্থিত ছিলেন। কাতারের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে গুলি করে নামালেও, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মূল স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানে, ফলে ঘাঁটির ভেতরে ব্যাপক বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।’
📍 যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি
আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর ফরোয়ার্ড হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রায় ১০,০০০ মার্কিন সেনা এই ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল। এখানে রয়েছে দুটি ৩,৭৫০ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে, যা মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সময় বিমান ও ড্রোন অপারেশন পরিচালনায় সহায়ক ছিল।
ঘাঁটিতে ৩৭৯তম এয়ার এক্সপেডিশনারি উইং এবং ৬০৯ নম্বর এয়ার অপারেশন সেন্টার-এর মাধ্যমে ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানসহ সমগ্র অঞ্চলে যুদ্ধ বিমান পরিচালনা করা হতো।
🚨 ইরানের হামলার প্রভাব
হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে ৪০টি সামরিক বিমান সরিয়ে নেয়, যাতে ক্ষয়ক্ষতি আরও না বাড়ে। তবে এরই মধ্যে ঘাঁটির ভেতরে বিপুল বিস্ফোরণ ও আগুনে বেশিরভাগ স্থাপনা ভেঙে পড়ে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কৌশলগত সামরিক সক্ষমতায় গভীর আঘাত এসেছে। বিশেষ করে ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানে জরুরি বিমান সহায়তা, সরঞ্জাম পরিবহন এবং যৌথ সামরিক অভিযানে বিলম্ব ও দুর্বলতা দেখা দেবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আল উদেইদ ঘাঁটিতে এই সফল হামলা ইরানের জন্য একটি কৌশলগত বিজয়। এর মাধ্যমে ইরান নিজেদের আঞ্চলিক শক্তি ও প্রভাব আরও সুদৃঢ় করেছে। এ হামলা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
এসসি//



