মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে। ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় কাতার ও বাহরাইন থেকে কিছু যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর জাহাজ সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৮ জুন) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে।
এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, “যেসব যুদ্ধবিমান শক্ত সুরক্ষিত শেল্টারে নেই, সেগুলো কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইনের একটি সামরিক বন্দর থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
অন্য একজন কর্মকর্তা বলেছেন, “এটি কোনো অস্বাভাবিক পদক্ষেপ নয়। আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
📍 মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান:
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হলো কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, যা দোহার অদূরের মরুভূমিতে অবস্থিত। অন্যদিকে বাহরাইনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের ঘাঁটি—মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরে নৌসেনা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এটি অত্যন্ত কৌশলগত।’
🚫 সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা:
এই পরিস্থিতির মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) কাতারস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাদের কর্মীদের জন্য আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একইসঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
⚠️ ইরানের হুঁশিয়ারি:
এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলিদের সঙ্গে যোগ দেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, তাদের সবগুলোতেই হামলা চালানো হবে।”
🗣️ ট্রাম্পের অবস্থান:
এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানে সামরিক হামলার অনুমোদন দিয়েছেন, তবে এখনই চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি। তিনি “পুরো বিশ্বকে অন্ধকারে রেখে” সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মন্তব্য করেছেন এবং বলেন, “আগামী সপ্তাহটা খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে— সম্ভবত এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ একটি কৌশলগত সতর্কতা, যা ইরানকে চাপের মধ্যে রাখার অংশ হতে পারে।
এসসি//



