মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ইরান হামলার পরিকল্পনা। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে সামরিক হামলার পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছেন— এমনটাই জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
বুধবার (১৮ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসে এক গোপন বৈঠকে ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের জানিয়েছেন যে, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছেন। তবে এখনই হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দিচ্ছেন না। তিনি দেখতে চান ইরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসে কিনা।
🎯 প্রধান লক্ষ্য: ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্র
এই সামরিক পরিকল্পনায় ইরানের ফোর্দো পারমাণবিক সমৃদ্ধিকরণ কেন্দ্র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু। এটি একটি দুর্গম পাহাড়ের নিচে অবস্থিত এবং সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ বোমা দিয়ে এ স্থাপনা ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। একমাত্র গভীর-ভেদী শক্তিশালী বোমা দিয়েই আঘাত করা সম্ভব।
🗣️ ট্রাম্পের বক্তব্য: “হামলা করতেও পারি, নাও করতে পারি”
একইদিনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি হামলা করতেও পারি, আবার নাও করতে পারি। তবে আগামী সপ্তাহটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে, সম্ভবত এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসবে।”
তিনি আবারও ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
⚔️ ইরানের জবাব: “আমরা কখনোই আত্মসমর্পণ করব না”
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তবে তার পরিণতি হবে অপূরণীয় ক্ষতি।”
⚓ সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
- তৃতীয় একটি ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হয়েছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে
- দ্বিতীয় একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানো হচ্ছে আরব সাগরে
◆পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব প্রস্তুতি ◆প্রতিরক্ষামূলক, তবে এগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ◆বিরুদ্ধে হামলার জন্য কৌশলগতভাবে প্রস্তুত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কৌশল ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে, যাতে তারা পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
এসসি//



