ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ার করে বলেছেন, তেহরান কোনো চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ মেনে নেবে না এবং কোনো হুমকির সামনে মাথানত করবে না। বুধবার (১৮ জুন) ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।
খামেনি বলেন, “যাঁরা ইরান, এর জাতি ও ইতিহাস সম্পর্কে জানেন, তাঁরা কখনো এই জাতিকে হুমকি দেন না। কারণ, ইরানি জাতিকে দমন করা যায় না। আমেরিকানরা এটা জেনে রাখুক, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তবে তা হবে তাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ।”
এ বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে সরাসরি লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছেন।’
ইরানি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস জানিয়েছে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রতিটি হামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন, সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে। যদিও এখনো পর্যন্ত সরাসরি মার্কিন যুদ্ধবিমান হামলায় অংশ নেয়নি, কিন্তু ওয়াশিংটনের উপস্থিতি স্পষ্ট।’
বিশ্লেষকদের মতে, ”ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম। এই ঘাঁটিগুলোতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইতিমধ্যেই দখলদার ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে।’
তেহরান টাইমসের মন্তব্য অনুযায়ী, ”ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে হামলা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন এই ব্যর্থতা ঢাকতে এবং সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মাঠে নামানো হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।’
খামেনির স্পষ্ট বার্তা— ইরান স্বাধীন জাতি, কেউ চাপিয়ে দেওয়া শান্তি বা যুদ্ধ মেনে নেবে না। হুমকির জবাবে প্রতিরোধ আসবেই।‘
এসসি//



