ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে মধ্যপ্রাচ্যের “সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।
তুরস্কের প্রেসিডেন্সির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য জানায়।
কাতারের আমিরের সঙ্গে ফোনালাপ
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এরদোয়ান। আলোচনায় তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু আবারও প্রমাণ করেছেন, তিনি এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।”
এরদোয়ান আরও বলেন, ইরানের ওপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার কারণে যে নতুন সংঘাত শুরু হয়েছে, তা নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই সহিংসতা যেন আরও বিস্তৃত না হয়, সে জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করছেন তিনি।
গাজা ও সিরিয়ার বিষয়ে সতর্ক বার্তা
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেন, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে যেন গাজার মানবিক বিপর্যয় ও গণহত্যা আড়ালে না চলে যায়। তিনি বলেন, “এই সংঘাত যেন সিরিয়াকেও গ্রাস না করে, সেদিকেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”
এরদোয়ান আরও জানান, ”ইসরায়েলের আগ্রাসন থামাতে আন্তর্জাতিক মহলকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। তুরস্ক এরই মধ্যে এই লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।’
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এরদোয়ানের অবস্থান
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান যুদ্ধে এরদোয়ান একাধিকবার ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি ইসরায়েলকে “সন্ত্রাসী রাষ্ট্র” এবং নেতানিয়াহুকে “আধুনিক হিটলার” বলে আখ্যায়িত করেছেন।’
আঞ্চলিক নেতৃত্বে তুরস্কের কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং গাজা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আঙ্কারা নিজেকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার নেতৃত্বে দেখতে চাইছে। এরদোয়ানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক বার্তাগুলো সেই প্রচেষ্টারই অংশ।”
তারা বলছেন, এই মুহূর্তে তুরস্ক আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চাইছে—যা একদিকে মুসলিম বিশ্বে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা এবং অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করতে সহায়ক হতে পারে।”
এসসি//



