মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সোমবার (১৬ জুন) রাতে তেলআবিবে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। হামলার পরপরই ইসরায়েলের রাজধানীসহ আশপাশের শহরে অ্যালার্ম বেজে ওঠে, সৃষ্টি হয় চরম আতঙ্ক।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, এ হামলা ছিল প্রতিশোধমূলক এবং দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র ও বিস্তৃত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। তেলআবিব ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। ইরান এই হামলাকে তাদের ‘সার্বভৌম নিরাপত্তা রক্ষার বৈধ প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে অভিহিত করে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করাই হতে পারে এই যুদ্ধ বন্ধ করার একমাত্র পথ।” তিনি আরো বলেন, ইসরায়েল তাদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় যে কোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: তেহরান ছাড়ার আহ্বান
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সামাজিক মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “সবাইকে অবিলম্বে তেহরান ত্যাগ করতে হবে।” তিনি দাবি করেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে জন্যে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।
মানবিক বিপর্যয়: ইরান ও গাজায় ভয়াবহ মৃত্যু সংখ্যা
তেলআবিবে ইরানি হামলায় এখন পর্যন্ত ২২০ জন নিহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, যাদের মধ্যে রয়েছে ৭০ জন নারী ও শিশু। অপরদিকে, ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় ইরানে ২০ জন নিহত হয়েছে।
এছাড়া গাজায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিও ভয়াবহ। আলজাজিরার তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৫৫ হাজার ৪৩২ জন নিহত এবং ১ লাখ ২৮ হাজার ৯২৩ জন আহত হয়েছে। এর আগের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত এবং ২০০ জন জিম্মি হয়েছিল।’
এসসি//



