ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করলে যুদ্ধ বন্ধ হবে—এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সোমবার (১৬ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বক্তব্য দেন।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর মন্তব্য, “আমরা যা করা প্রয়োজন তাই করব। আমি সব কিছু প্রকাশ করব না। তবে আমরা তাদের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীদের আগে থেকেই টার্গেট করেছি। যদি আমরা খামেনিকে হত্যা করি, তাহলে যুদ্ধ বাড়বে না; বরং তা শেষ হবে।”
এ বক্তব্যের মাধ্যমে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে খামেনিকে হত্যার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যকে ঘিরে উদ্বেগ ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স দাবি করেছে, ইরান এখন যুদ্ধবিরতির আলোচনা করতে আগ্রহী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং যুদ্ধ থামানোর জন্য তাদের মধ্যস্থতার অনুরোধ জানিয়েছে। একইসঙ্গে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান আসলে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় আগ্রহী নয়। তার ভাষায়, “আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে, যা বলছে—তারা আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করছে।”
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতাকে হত্যার বিষয়ে প্রস্তাব পেলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে ভেটো দিয়েছিলেন। তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েল এখনো এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। ইতোমধ্যে গাজা, লেবানন, হুথি বিদ্রোহী ও হিজবুল্লাহকে ঘিরে সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। খামেনিকে হত্যার মতো পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ রূপ দিতে পারে।
এসসি//



