আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI-171 বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে টাটা গ্রুপ। এই বিমানটি ভারতের অন্যতম বড় চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিজে মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের ওপর ভেঙে পড়ে, যেখানে বহু শিক্ষার্থী আহত হন ও বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (সাবেক টুইটার)–এ এক বিবৃতিতে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন জানান: “এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ১৭১–এর মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এই দুঃখ প্রকাশের জন্য কোনো শব্দই যথেষ্ট নয়। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারগুলোর প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের জন্য প্রার্থনা করছি। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছি।”
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে টাটা গ্রুপ। পাশাপাশি, বিধ্বস্ত হওয়া ছাত্রাবাস পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।’
‘বৃহস্পতিবার দুপুরে আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি দুর্ঘটনার শিকার হয় এবং বিজে মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের ওপর ভেঙে পড়ে।’
‘দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এখনও পর্যন্ত দুই শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, যদিও সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।’
‘এয়ার ইন্ডিয়ার বিবৃতি অনুযায়ী, বিমানটিতে মোট ২৩২ জন যাত্রী এবং ১০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।’
যাত্রীদের জাতীয়তা ছিল নিম্নরূপ:
- ▪১৬৯ জন ভারতীয়
- ▪৫৩ জন ব্রিটিশ
- ▪১ জন কানাডীয়
- ▪৭ জন পর্তুগিজ নাগরিক
বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় ছাত্রাবাসে অবস্থান করছিলেন অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী, যাদের সবাইকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভারতের চিকিৎসক সংগঠন FAIMA জানিয়েছে, এখনও ৫ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ এবং ২ জন আইসিইউতে রয়েছেন।
NDTV-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন মেডিকেল ছাত্র, যাদের মধ্যে ৪ জন স্নাতক ও ১ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী।’
‘টাটা গ্রুপ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিজে মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস পুনর্নির্মাণের সম্পূর্ণ দায়িত্বও তারা গ্রহণ করবে। এ উদ্যোগকে অনেকেই একটি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার নিদর্শন হিসেবে দেখছেন।’
এই দুর্ঘটনা শুধু ভারতের নয়, বিশ্বের জন্যই এক গভীর শোকের ঘটনা। টাটা গ্রুপের এ ধরণের পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে ভবিষ্যৎ কর্পোরেট মানবিকতার জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
এসসি//



