নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে কোরবানির গরু পরিবহন করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
‘বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজশাহীর নওদাপাড়া সিটি হাট থেকে তিনি একটি গরু কিনে এসিল্যান্ডের সরকারি ডাবল কেবিন গাড়িতে তা বহন করেন।’
‘ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই দিন রাজশাহীতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি সভায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন ইউএনও প্রভা। তিনি বাগাতিপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি)–এর অতিরিক্ত দায়িত্বেও রয়েছেন। সভা শেষে তিনি রাজশাহীর সিটি হাটে যান এবং কোরবানির জন্য একটি গরু কিনে এসিল্যান্ডের গাড়িতে গরুটি তুলেন। গাড়ির সামনের কেবিনে বসে পেছনের কেবিনে গরু নিয়ে নিজ উপজেলা বাগাতিপাড়ায় ফিরে যান।’
‘এই ঘটনা সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। অনেকেই সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়টিকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন।’
গাড়িচালক সুমন আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “রাজশাহীতে বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে ইউএনও স্যারের মিটিং ছিল। মিটিং শেষে তিনি একটি গরু কিনে গাড়িতে তুলতে বলেন, আমি গরুটি গাড়িতে তুলে আনি।”
”জেলার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা দিতে পারে। সরকারি যানবাহন কেবলমাত্র দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত। ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য সরকারি গাড়ি ব্যবহার নীতিমালার পরিপন্থী।’
‘প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা রক্ষায় সরকারি সম্পদের ব্যবহার সম্পর্কে কড়াকড়ি নির্দেশনা রয়েছে। এ ধরনের ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকেরা।’
সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জনগণের প্রত্যাশা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা। একজন ইউএনও যদি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করেন, তা প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।’
এসসি//



