◆সাধারণ ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য প্রস্তাবিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এসেছে স্বস্তির খবর। এখন থেকে ব্যাংকে পুরো বছরে তিন লাখ টাকার নিচে জমা থাকলে কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না। আগে এই সীমা ছিল এক লাখ টাকা।
সোমবার (২ জুন) বিকেলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভিসহ বিভিন্ন টেলিভিশনে একযোগে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
🔍 আবগারি শুল্কে পরিবর্তন-
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “জনসাধারণকে কিছুটা স্বস্তি প্রদানের লক্ষ্যে আবগারি শুল্ক ও ভ্যাটে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকে এক লাখ টাকার পরিবর্তে এখন তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জমায় শুল্ক প্রযোজ্য হবে না।” এর ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ ছোট আকারের সঞ্চয়কারী ও সাধারণ গ্রাহক কিছুটা আর্থিক সুবিধা পাবেন।’
📉 বাজেটের আকার কমেছে, ইতিহাসে প্রথম-
‘প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন একটি ঘটনা, যেখানে বাজেটের মোট আকার হ্রাস পেয়েছে।’
📊 বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান:
- রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা: ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা
- ঘাটতির পরিমাণ: ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৬২%)
- ঘাটতি পূরণ: বৈদেশিক ঋণ, ব্যাংক ঋণ ও সঞ্চয়পত্র
- মূল অগ্রাধিকার: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা
⚠️ মূল্যস্ফীতি এখনও চ্যালেঞ্জ
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা হ্রাস পেলেও তা এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।” পাশাপাশি, মার্কিন প্রশাসনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও তিনি সতর্ক করেন।
💡 বাজেটের মূল লক্ষ্যসমূহ
- মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ
- রাজস্ব বৃদ্ধি
- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ
- কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষত গ্রামীণ এলাকায়
- অবকাঠামো উন্নয়ন
- অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পথে ধরে রাখার একটি প্রয়াস। আবগারি শুল্কে ছাড়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর থেকে কিছুটা আর্থিক চাপ কমানো হয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে বাস্তবায়নে কার্যকরতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে বড় পরীক্ষা।
এসসি//



