◆পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান, তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে একচুলও ছাড় না দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।''
সোমবার (২৬ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘায়ি বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হয়—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যেন কখনো অস্ত্রায়নে পরিণত না হয়, তাহলে আমরা খুব সহজেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারি।”
শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির অধিকার ছাড়বে না ইরান–
বাঘায়ি স্পষ্ট করে জানান, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরান কখনোই বিসর্জন দেবে না। তিনি বলেন, “আপসের অনেক পথ রয়েছে, তবে যদি উদ্দেশ্য হয় ইরানের অধিকার কেড়ে নেওয়া—তাহলে সেটা হবে বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক।”
রোমে সফল আলোচনার পর আশাবাদী ট্রাম্প প্রশাসন–
এর আগে রোমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পঞ্চম দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার এক বিবৃতিতে জানান, “আমরা ইরানের সঙ্গে গতকাল ও আজ ভালো আলোচনা করেছি। আমি মনে করি, ইরান ইস্যুতে ভালো কিছু হতে পারে।”
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “এই দফার আলোচনা ছিল সবচেয়ে পেশাদার। তবে বিষয়গুলো এত জটিল যে, মাত্র দুই-তিনটি বৈঠকে চূড়ান্ত সমাধান সম্ভব নয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কিছুটা নমনীয়: বাঘায়ি–
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তবুও বাঘায়ির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের আচরণে কিছুটা নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “এখনো আমরা আলোচনায় রয়েছি—এটাই প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্রও বুঝতে পারছে, ইরান শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির অধিকার ছাড়বে না।”
আইএইএর উদ্বেগ: ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত বেড়েছে ৫০%
জাতিসংঘ পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি গত মার্চে জানান, তিন মাসের ব্যবধানে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, “ইরানই একমাত্র অ-পরমাণু অস্ত্রধারী দেশ, যারা এ স্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।”
ইসরায়েলের হামলার প্রস্তুতির তথ্য নিয়ে উত্তেজনা-সিএনএনের বরাতে আরও জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কিছু গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে—যা ইঙ্গিত দেয়, ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাঘায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরানিরা কোনো চাপের কাছে নত হবে না। জাতি হিসেবে আমরা জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে এক কণ্ঠে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।”
সমঝোতার আশা এখনো টিকে আছে–
▪যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি আলোচনার সম্ভাবনা একরকম খারিজ করে দিয়েছেন, তিনি পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করে বলেন, “বোকামি কথা না বলাই ভালো।” তবে মুখপাত্র বাঘায়ি আশাবাদী, ‘উইন-উইন’ সমঝোতার পথ এখনো খোলা।;
এসসি//



