◆পাকিস্তান গোপনে তাদের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারকে আধুনিকীকরণ করছে—এমন দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ)। ভারতের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
▪ডিআইএর তথ্য অনুসারে, পাকিস্তান কেবল পারমাণবিক অস্ত্র উন্নত করেই ক্ষান্ত নয়, বরং পারমাণবিক কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেমের নিরাপত্তা জোরদার করতেও তৎপর। ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা এতে মুখ্য ভূমিকা রাখছে।’
▪মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে ভারত পাকিস্তানের প্রধান নজরদারির আওতাভুক্ত দেশ। ইসলামাবাদ আগামী এক বছরে ভারতকেই প্রধান সামরিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে পারমাণবিক ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করবে।”
▪প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান ভারতের তুলনায় তাদের সামরিক ও পারমাণবিক ক্ষমতা উন্নত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রতিযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে পরমাণু উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।’
পরমাণু শক্তিতে কে এগিয়ে: ভারত না পাকিস্তান?
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার-এর ২০২৫ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
ভারতের হাতে রয়েছে আনুমানিক ১৩০ থেকে ১৪০টি পরমাণু অস্ত্র‘
পাকিস্তানের হাতে রয়েছে আনুমানিক ১৪০ থেকে ১৫০টি পরমাণু অস্ত্র‘
▪এই সংখ্যাগত পার্থক্যে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান সামান্য এগিয়ে। তবে দুই দেশই সমানতালে পরমাণু প্রযুক্তি উন্নত করতে কাজ করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।’
‘যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা—
▪যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র আধুনিকীকরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে।’
▪বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক প্রতিযোগিতা দক্ষিণ এশিয়াকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যেখানে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত ভয়াবহ পরিণতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।”
এসসি//



