▪রাজধানীর বনানী এলাকায় সিমেন্টের লরির ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক আশফাকুর রহমান আসিফ(২৪) ও আরোহী আসিফ মাহমুদ সম্পদ(২৫) নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে আশফাকুর রহমান আসিফ হাজী দীনেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন এবং আতিফ মাহমুদ সম্পদ চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমী থেকে মেরিন এ লেখাপড়া শেষ করেছেন।'
▪রবিবার(২৫ মে) নয়টার দিকে বনানী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাদের দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করে দুপুরের দিকে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ।”
▪জানা যায়, ‘সকাল ৯ টার দিকে আশফাকুর রহমান আসিফের মোটরসাইকেলে করে উত্তরার দিকে যাচ্ছিলেন আসিফ মাহমুদ সম্পদ। কিন্তু বনানীতে এসে পেছন দিক থেকে আসা একটি লরি তাদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের দুজনের মৃত্যু হয়।চাকরির খোঁজে ঢাকায় এসেছিলেন হাজী দীনেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগ থেকে বিএসসি পাস কররেন আশফাকুর রহমান আসিফ। চাকরির খোঁজার পাশাপাশি করতেন রাইড শেয়ারিং। এদিকে ওই মোটর সাইকেলে করে মহাখালী থেকে বাবার জন্য খাবার নিয়ে উত্তরার হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার আসিফ মাহমুদ সম্পদ। সে চট্টগ্রাম মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ৫৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী।”
”আশফাকুর রহমান আসিফের বন্ধু বিধান জানান, আমরা হাজী দীনেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুর থেকে ডিসেম্বরে ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করি। তার স্বপ্ন ছিল সে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করবে। বিভিন্ন জায়গায় চাকরির জন্য সে সিভি দিয়েছে অনেক জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়েছিল। পাশাপাশি সে মোটর সাইকেলের রাইড শেয়ারিং করতো। আজ সকালের দিকে এসে তার মোটরসাইকেলে করে উত্তরা দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বনানী এলাকায় সিমেন্টের একটি লরি ওই মোটরসাইকেলে থাকা দুজনকেই চাপা দেয়। এতে আমার বন্ধু আশফাকুর রহমান আসিফ এবং ওই মোটরসাইকেলে থাকা আসিফ মাহমুদ সম্পদ নামে একজন মারা যায়। শেষে ছিল একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরি করবে কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।”
▪সে আরও জানায়, তার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার সদর থানার পশ্চিম কুমারপাড়া এলাকার মোঃ আলমের ছেলে ছিল। বর্তমানে সে ফার্মগেট এলাকায় থাকতো।দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট।”
▪এদিকে নিহত আসিফ মাহমুদের প্রতিবেশী বিধান মিশন জানান, আসিফ মাহমুদ সম্পদ চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমীর ৫৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে সে চায়নার একটি শিপ থেকে ইন্টার শেষ করে। আসিফের বাবার ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। সেই কারণে সে ঢাকায় আসে এবং তার বাবার উত্তর আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে ব্রেন টিউমারের অপারেশন হয়। আজ সকালে এসে তার মহাখালি তার খালার বাসা থেকে খাবার নিয়ে একটি রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলে করে উত্তরায় তার বাবার কাছে হাসপাতালে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে বনানী এলাকায় একটি সিমেন্টের লরি তাদের ধাক্কা দিলে রাইট শেয়ারিং এর চালক ও আসিফ দুজনেই ঘটনাস্থলে মারা যায়। শেষ পর্যন্ত আর খাবার নিয়ে তার বাবার কাছে পৌঁছাতে পারেনি। এখন পর্যন্ত তার বাবা-মা কেউই ঘটনাটি জানেনা। হাসপাতালে তার বাবা বারবার বলছিল আসিফ কেন এখনো খাবার নিয়ে আসছে না। সে বিদেশি বেশ কয়েকটি শিপে চাকরি করেছে।”
▪তিনি আরও বলেন, আসিফের বাড়ি মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার দখলপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে ছিল। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে আসিফ ছিল সবার বড়। কয়েক মাস আগে তার বাবা শহিদুল ইসলাম বিজিবি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।”
▪বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রাসেল সরোয়ার জানান, উত্তরাগামী বনানী কাকলি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের রেম্পের কাছে পেছন দিক থেকে আসা সিমেন্টের লরি একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। এই লরির হেলপার রবিউল ইসলামকে আটক করা হলেও পালিয়ে গেছে চালক। তাদের দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
এসসি//এসএএ//



