◆কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে আইএমএফের শর্ত মানতে বিলুপ্ত হলো দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।একইসঙ্গে বিলুপ্ত করা হলো অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকটা অন্ধকারে রেখেই গভীর রাতে জারি হলো সরকারি এই প্রজ্ঞাপন।’
▪এতে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা দুটি বিভাগ করে পুরনো এই প্রতিষ্ঠানগুলোক বিলুপ্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও সোমবার (১২ মে) সন্ধ্যায় কাস্টমস ও ট্যাক্সের অ্যাসোসিয়েশনের বাইরে গিয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।’
▪এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় দাবি আদায়ে আন্দোলনের ডাক দেন পথ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মঙ্গলবার এনবিআর ভবনে বিকেল তিনটা থেকে অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হবে। উপদেষ্টা পরিষদ গোপনে ‘রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ’-এর খসড়া পাস করায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এনবিআর ভবনে বিসিএস আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা, আয়কর ও কাস্টমস বিভাগের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের সমন্বয়ে ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’র ব্যানারে এ কর্মসূচী পালিত হবে।’
▪সোমবার সকাল নয়টা থেকে এনবিআর, বিভিন্ন কর অঞ্চল, কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারেট, কাস্টম হাউস থেকে হাজারো কর্মকর্তা এনবিআর ভবনে এসে জড়ো হন। ধাপে ধাপে প্রায় ৯ ঘণ্টা বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অবস্থান কর্মসূচীতে অংশীজনের মতামত ছাড়া অধ্যাদেশের খসড়া পাস করায় নিন্দা জানানো হয়েছে।অধ্যাদেশে কি উল্লেখ করা হয়েছে তা জনসম্মুখে প্রকাশ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।’
▪এর আগে অস্তিত্ব সংকট উপলব্ধি করে দুই সংগঠনের অ্যাসোসিয়েশন বিশেষ জরুরি সভার (ইজিএম) আয়োজন করেছে। সেখান থেকে অবিলম্বে এই খসড়া বাতিল ও এনবিআর বিলুপ্ত না করার দাবি জানানো হয়েছে।অংশীজন হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে একই দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যাক্স লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন। রাজস্ব আদায়ের বড় চ্যালেঞ্জ থাকলেও খসড়া অধ্যাদেশের অনুমোদনের পর থেকে রাজস্ব আদায় মুখ থুবড়ে পড়েছে। কাজে মনোযোগ নেই রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তাদের।’
▪মঙ্গলবার আন্দোলনের প্রথম দিনে পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মবিরতির সিদ্ধান্তে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।’
▪এনবিআর সূত্র বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ঘাটতি ছাড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। এখন বাকি তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে প্রতিদিন রাজস্ব আদায় করতে হবে দুই হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। এ মুহুর্তে কর্মবিরতির দিকে গেলে বড় রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়তে পারে সরকার।’
এসসি//



