ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চোর চক্র ধরা পড়েছে। চক্রটি আলফাডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, জমির পাম্প ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল চুরি করত। বিশেষভাবে, তারা বাসার ভেন্টিলেটারের মাধ্যমে ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি করত।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে কুসুমদি এলাকার এক বাসিন্দা তার বাড়িতে চুরি হওয়ার পর জানায়, চুরির ঘটনা প্রায় এক সপ্তাহ আগে ঘটে। চোরেরা তার বাড়ি থেকে ১০,০০০ টাকা, কানের দুল ও নেকলেস চুরি করে নিয়ে যায়। তবে, চোর তার মোবাইল ফোন ভুলে রেখে যায়, যা পরে স্থানীয়রা দেখে চোরের পরিচয় শনাক্ত করে। চোরকে আটক করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানায় নিয়ে আসে।
তদন্তে জানা যায়, চোরের সাথে তার তিন সঙ্গী ছিল এবং তারা চুরি করে পালিয়ে যাচ্ছিল। পরে, স্থানীয় বাস স্ট্যান্ড থেকে ওই চোর এবং তার সঙ্গীদের আটক করা হয়। আরও জানা যায় যে, চুরি করা মালামাল জনপ্রিয় জুয়েলার্সের মালিক রবিন্দ্রনাথ কর্মকার (রবি কর্মকার) ও তার ছেলে রাকেশ কর্মকারের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। তবে, আলফাডাঙ্গা থানার পুলিশ জানায় যে, শুধু জুয়েলার্স নয়, চোরাই মালামাল অন্য জায়গায়ও বিক্রি করা হয়েছে। সঠিক স্থানটি এখনও তদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে।
গ্রেফতারকৃত চোর চক্রের ৩ সদস্য হলেন:
- রবিউল: কুসুমদি গ্রামের বাদশার ছেলে
- গিয়াসউদ্দিন: পৌরসভার কুসুমদি এলাকার মৃত ওহাবের ছেলে
- ইকলাস: বোয়ালমারী উপজেলার দেউলি গ্রামের বাসিন্দা
এছাড়া, রবিন্দ্রনাথ কর্মকার (জনপ্রিয় জুয়েলার্সের মালিক) ও তার ছেলে রাকেশ কর্মকার অবৈধভাবে চোরাই স্বর্ণ ক্রয়ের অভিযোগে থানা হেফাজতে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো মেমো বা রশিদ ছাড়াই চোরাই স্বর্ণ ক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করেছেন যে, রবিন্দ্রনাথ দীর্ঘদিন ধরে চোরাই স্বর্ণ স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে আসছেন এবং তিনি এই চোর চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।
এসসি//



